ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম

ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে গেলে প্রথমে আমরা চিন্তা করি এটা তো অনেক কঠিন কাজ কিভাবে করব। যদি সহজ কথায় বলতে চাই, আমরা প্রথমে যেটা ভাবি, কাকে দিয়ে করাবো। কোন দালাল এর মাধ্যমে করালে ঠিকভাবে লাইসেন্সটা আমি হাতে পাবো। এটাই হচ্ছে আমাদের সব থেকে চিন্তার বিষয়। আজকে এখানে আলোচনা করব কিভাবে আপনি কোন দালাল ছাড়াই বা কোন লোকের মাধ্যম ছাড়াই নিজেই কিভাবে অতি সহজে ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে পারবেন। এখানে আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কি কি ধাপ পার করতে হবে। কি কি কাগজপত্র আপনার প্রয়োজন হবে সেসব বিষয়ে আলোচনা করব।

ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য প্রয়োজনীয়তা

১। ড্রাইভিং লাইসেন্স করার জন্যে প্রথমে লার্নার বা শিক্ষানবীশ ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে হবে।
২। ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণী পাশ হতে হবে ।
৩। অপেশাদার আবেদনকারীর বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর হতে হবে এবং পেশাদার আবেদনকারীর বয়স ন্যূনতম ২১ বছর হতে হবে।
৪। আবেদনকারীকে ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদনকারীকে মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে।

লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স করার প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:

আপনাকে প্রথমে bsp.brta.gov.bd/register এই ওয়েবসাইটের লিঙ্ক এ ক্লিক করে এখানে নিবন্ধন করতে হবে। তারপর আপনার জন্ম তারিখ এবং আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বার দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে । তাছাড়াও আরও যে তথ্যগুলো যাবে নিবন্ধন করার জন্য সেই তথ্যগুলো সঠিক ভাবে দিয়ে সম্পূর্ণ নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে । লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য অনলাইনে আবেদন করতে যে কাগজগুলোর দরকার হবেঃ

১। আবেদনকারীর ছবি [ছবির সাইজ সর্বোচ্চ ১৫০ কেবি (৩০০ x ৩০০ পিক্সেল এর মধ্যে হতে হবে)]
২। রেজিষ্টার্ড ডাক্তার কর্তৃক মেডিকেল সার্টিফিকেট (সর্বোচ্চ ৬০০কে.বি এর মধ্যে হতে হবে)। মেডিক্যাল সার্টিফিকেটের ফর্মের এর ডাউনলোড লিংক Form-Medical
৩। জাতীয় পরিচয়পত্রের স্ক্যান কপি (সর্বোচ্চ ৬০০কে.বি এর মধ্যে হতে হবে)
৪। ইউটিলিটি বিলের স্ক্যান কপি (সর্বোচ্চ ৬০০কে.বি এর মধ্যে হতে হবে), [ আবেদনকারীর বর্তমান ঠিকানা এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ঠিকানা যদি ভিন্ন হয় তবে বর্তমান ঠিকানার ইউটিলিটি বিল সংযুক্ত করতে হবে ]
৫। নির্ধারিত ফী, ১ ক্যাটাগরি-৩৪৫/-টাকা ও ২ ক্যাটাগরি-৫১৮/-টাকা অনলাইনে পরিশোধ করতে হবে।

লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স অনলাইনে আবেদন করার সময় উপরের কাগজ গুলা লাগবে। আবেদন করার সম্পূর্ণ হলে সেখান থেকে লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স কি ডাউনলোড করতে হবে। এই লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স এর ওপরে লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্টপরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচী দেয়া থাকবে । তাছাড়াও মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্ট পরীক্ষার সময়সূচী এবং তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে। পরীক্ষার দিন অবশ্যই একটি কালো কলম এবং ফিল্ড টেস্টের জন্য গাড়ি নিয়ে যেতে হবে ।
লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর পুনরায় একটি নির্ধারিত ফরমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফী প্রদান করে স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স-এর জন্য সংশিস্নষ্ট সার্কেল অফিসে আবেদন করতে হবে। গ্রাহকের বায়োমেট্রিক্স (ডিজিটাল ছবি, ডিজিটাল স্বাক্ষর ও আঙ্গুলের ছাপ) গ্রহণপূর্বক স্মার্ট কার্ড ইস্যু করা হয়। স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রন্টিং সম্পন্ন হলে গ্রাহককে এসএমএস এর মাধ্যমে তা গ্রহণের বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হয়।

স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স-এর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:

১। বিআরটিএ কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে আবেদন।
২। রেজিষ্টার্ড ডাক্তার কর্তৃক মেডিকেল সার্টিফিকেট যেটি লার্নার করার সময় অনলাইন থেকে ডাউনলোড করা হয়েছিল।
৩। ন্যাশনাল আইডি কার্ড এর সত্যায়িত ফটোকপি।
৪। নির্ধারিত ফী (পেশাদার- ১৬৭৯/-টাকা ও অপেশাদার- ২৫৪২/-টাকা) বিআরটিএ’র নির্ধারিত ব্যাংকে জমাদানের রশিদ।
৫। পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স-এর জন্য পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদন।
৬। সদ্য তোলা ১ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি।

ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়া:

অপেশাদারঃ

গ্রাহককে প্রথমে নির্ধারিত ফি ( মেয়াদোত্তীর্ণের ১৫ দিনের মধ্যে হলে ২৪২৭/- টাকা ও মেয়াদোত্তীর্ণের ১৫ দিন পরে প্রতি বছর ২৩০/- টাকা জরিমানাসহ) জমা দিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিআরটিএর নির্দিষ্ট সার্কেল অফিসে আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্র ও সংযুক্ত কাগজপত্র সঠিক পাওয়া গেলে একইদিনে গ্রাহকের বায়োমেট্রিক্স (ডিজিটাল ছবি, ডিজিটাল স্বাক্ষর ও আঙ্গুলের ছাপ) গ্রহণ করা হয়। স্মার্ট কার্ড প্রন্টিং সম্পন্ন হলে গ্রাহককে এসএমএস এর মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়।

পেশাদারঃ

পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সধারীদেরকে পুনরায় একটি ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর নির্ধারিত ফি ( মেয়াদোত্তীর্ণের ১৫ দিনের মধ্যে হলে ১৫৬৫/- টাকা ও মেয়াদোত্তীর্ণের ১৫ দিন পরে প্রতি বছর ২৩০/- টাকা জরিমানাসহ ) জমা দিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিআরটিএর নির্দিষ্ট সার্কেল অফিসে আবেদন করতে হবে। গ্রাহকের বায়োমেট্রিক্স (ডিজিটাল ছবি, ডিজিটাল স্বাক্ষর ও আঙ্গুলের ছাপ) গ্রহণের জন্য গ্রাহককে নির্দিষ্ট সার্কেল অফিসে উপস্থিত হতে হয়। স্মার্ট কার্ড প্রন্টিং-এর সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে গ্রাহককে এসএমএস এর মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
১। নির্ধারিত ফরমে আবেদন।
২। রেজিষ্টার্ড ডাক্তার কর্তৃক মেডিকেল সার্টিফিকেট।
৩। ন্যাশনাল আইডি কার্ড -এর সত্যায়িত ফটোকপি।
৪। শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ;
৫। নির্ধারিত ফী জমাদানের রশিদ।
৬। পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স-এর জন্য পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদন।
৭। সদ্য তোলা ১ কপি পাসপোর্ট ও ১কপি স্ট্যাম্প সাইজ ছবি।